মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন দেশের ৬৪ শতাংশ নারী

১৮ জুন, ২০২১ ০৮:৪১  
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। নারীদের বিপরীতে বাংলাদেশের ৮৪ শতাংশ পুরুষের মোবাইলে ইন্টারনেট আছে। মোবাইল টেলিযোগাযোগ শিল্পের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, আলজেরিয়া এবং পাকিস্তানের নারীরা মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারিবারিক বাধার মুখে পড়েন। চতুর্থ বার্ষিক ‘জিএসএমএ মোবাইল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২১’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার।  মোবাইল ইন্টারনেটের সচেতনতার বিষয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৭৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৬৬ শতাংশ নারী মোবাইল ইন্টারনেট বিষয়ে সচেতন; কিন্তু সবাই এটি কাজে লাগান না। মাত্র ৩৩ শতাংশ পুরুষ এবং ১৯ শতাংশ নারী তাদের সচেতনতা কাজে লাগান প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে,  ভারতের পুরুষেরা বাংলাদেশের থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে (৭৯ শতাংশ) পিছিয়ে থাকলেও নারীরা এগিয়ে আছেন। দেশটিতে ৬৭ শতাংশ নারী মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। আর এশিয়ায় ভারত-বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে পাকিস্তান। দেশটির ৭৮ শতাংশ পুরুষ মোবাইলের মালিক এবং তারা ডেটা ব্যবহার করেন। সেখানে নারীদের হার ৫২ শতাংশ। জিএসএমএ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বয়স অনুযায়ী মোবাইলের মালিকানায় জেন্ডার গ্যাপ প্রকট। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে জেন্ডার গ্যাপ ১৭ শতাংশ। এই বয়সী পুরুষদের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম নারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যাদের বয়স আবার ৫৫ বছরের বেশি তাদের মধ্যে মালিকানার দিক থেকে জেন্ডার গ্যাপ ৪৬ শতাংশ। এই বয়সী পুরুষদের তুলনায় ৮২ শতাংশ কম নারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। জিএসএমএ তাদের সূচনা বক্তব্যে বলেছে, একটা মোবাইল এবং তার ইন্টারনেট ব্যবস্থা জীবন বদলে দিতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখনো নারী-পুরুষের এই সুযোগ পাওয়ার হারে অনেক ব্যবধান আছে। তবে গত কয়েক বছরে সেটি কমছে। জরিপে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের আটটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মুখোমুখি সাক্ষাৎকারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপের জন্য ভারত বাদে অন্য দেশগুলো থেকে ১৮ কিংবা তার বেশি বয়সী ১ হাজার নারী-পুরুষকে বেছে নেয়া হয়। ভারত থেকে নেয়া হয়েছে ২ হাজার জনকে।